
ডেস্ক রিপোর্ট (ভোলা)
ভোলা সদর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরে ঘুরতে গিয়ে আকস্মিক ধসে নদীতে পড়ে দুই যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁদের আরও তিন বন্ধু সাঁতার কেটে প্রাণে বেঁচে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার ‘গরিবের দুবাই’ খ্যাত মেঘনার তীরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ ওই দুই যুবক হলেন— ভোলা পৌরসভার কালিবাড়ি রোড এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিমের ছেলে ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মো. আমজাদ (২৮) এবং শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট বাজার এলাকার সর্দার বাড়ির বাসিন্দা বাবুলের ছেলে মো. রাকিব (২৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা থেকে আমজাদ, রাকিব, ফাহিম ও শাওনসহ মোট পাঁচ বন্ধু মিলে মেঘনার তীরে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। আড্ডার একপর্যায়ে রাতের অন্ধকারে নদী তীর রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা জিওব্যাগগুলো হঠাৎ ধসে পড়ে। এর সঙ্গেই খরস্রোতা মেঘনার বুকে ছিটকে পড়েন পাঁচ বন্ধু। তাঁদের মধ্যে তিনজন সাঁতার কেটে কোনোমতে তীরে উঠতে পারলেও স্রোতের তোড়ে আমজাদ ও রাকিব নদীতে তলিয়ে যান। প্রাণে বেঁচে ফেরা তিন বন্ধুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন এবং স্থানীয়রা মিলে নিখোঁজদের উদ্ধারে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
স্থানীয়দের চেষ্টায় কোনো হদিস না মেলায় পরে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালালেও রাতে নিখোঁজদের কোনো সন্ধান পায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভোলার ইলিশা নৌ-থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, নিখোঁজ দুই যুবকের সন্ধানে নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড নদীতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে, তবে এখন পর্যন্ত তাঁদের খোঁজ মেলেনি।
অন্যদিকে, ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত মেঘনা নদীতে নিখোঁজ আমজাদ ও রাকিবের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।