
ডেস্ক রিপোর্ট (চুয়াডাঙ্গা)
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার একমাত্র ও ঐতিহ্যবাহী জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনের জৌলুস ফিরিয়ে আনতে এবং আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে জোরালো আন্দোলন শুরু করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। স্টেশনটির জরাজীর্ণ দশা সংস্কার, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ নিশ্চিত করতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মূল দাবিসমূহ আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে জয়রামপুর স্টেশনে আন্তঃনগর 'সাগরদাঁড়ি' ও 'কপোতাক্ষ' এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে তারা স্টেশনের জরাজীর্ণ অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার, লুপ লাইন পুনরায় সচল করা, টিকিট কাউন্টার বা টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করা এবং গেটম্যানসহ প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন।
জনদুর্ভোগ ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ বিক্ষোভকারীরা জানান, জয়রামপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই। পাশাপাশি, লুপ লাইন বন্ধ থাকা এবং স্টেশনের চরম অবহেলার কারণে এটি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে এলাকার শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী এবং কর্মজীবী সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম যাতায়াত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, এই রেলওয়ে স্টেশনটি কেবল একটি সাধারণ স্থাপনা নয়, বরং এটি দামুড়হুদা এলাকার মানুষের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির অন্যতম মাধ্যম। অথচ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় স্টেশনটি তার হারানো গৌরব হারিয়েছে। স্টেশনটিতে দ্রুত আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেওয়া হলে এই অঞ্চলের হাজারো মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও হুঁশিয়ারি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয়রা। রেলওয়ে প্রশাসন এলাকাবাসীর এই প্রাণের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে জয়রামপুর স্টেশনের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনবে—এমনটাই প্রত্যাশা পুরো দামুড়হুদাবাসীর। উল্লেখ্য, নিজেদের দাবি আদায়ে এর আগেও স্থানীয় জনগণ রেললাইনে অবস্থান নিয়ে ট্রেন আটকে বিক্ষোভ করেছিলেন, যার ফলে সাময়িকভাবে খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়েছিল।