কুমারখালী প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের খয়েরচাড়া নতুন পাড়া গ্রামে পারিবারিক কলহ ও বিয়েকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মো. মুন্নাফ হোসেন (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই আত্মীয় মো. ফারুক হোসেনের(৫৪) বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মুন্নাফকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, খয়েরচাড়া গ্রামের মুন্নাফ হোসেনের ছোট ছেলে মো. ইব্রাহিম তাঁর মামাতো বোন আফছানার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করেন। এ বিয়েতে আফছানার বাবা মো. আফিরুল প্রথমে আপত্তি করলেও পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে ইব্রাহিমকে জামাই হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
তবে আফিরুলের মামা মো. ফারুক হোসেনের স্ত্রী সেলিনা বেগম শুরু থেকেই এ সম্পর্কের বিরোধিতা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিয়ের বিষয়টি মীমাংসার পরও তিনি বিভিন্নভাবে বিরূপ মন্তব্য ও কথাবার্তা বলতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
অন্যদিকে, মুন্নাফ হোসেনের বড় ছেলে রুবেল দেশের বাইরে থাকায় তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়িতে অবস্থান করেন। অভিযোগ রয়েছে, মুন্নাফের বাড়ির পাশের প্রতিবেশী মো. আলমের স্ত্রী খালেদা বেগম ওই পরিবারের বিভিন্ন বিষয় রুবেলের স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে জানাতেন। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে অশান্তি ও বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
এসব বিরোধের জেরে গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় মাতবর, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গুরুজনদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে সালিশের পরও সেলিনা বেগম মুন্নাফের ছোট ছেলের স্ত্রীকে বিভিন্ন কটু কথা ও কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এরই জের ধরে শুক্রবার বেলা ২টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মো. ফারুক হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুন্নাফ হোসেনের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। এতে তাঁর ঘাড় ও হাতের বাহুর বিভিন্ন অংশ কেটে গিয়ে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়।
পরে মুন্নাফের সন্তান ও স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় মুন্নাফ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্ত ফারুক হোসেন ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।