
নিজস্ব প্রতিবেদক | কুষ্টিয়া
দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের আধুনিকায়ন কার্যক্রমে ফের হোঁচট লেগেছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জটিলতা দেখা দেওয়ায় মঙ্গলবার সংস্কারকাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কাঠগোলাপ গাছ সংলগ্ন পূর্বপাশের দুটি অবৈধ দোকান না ভাঙায় নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ট্রাক কাজের জায়গায় প্রবেশ করতে পারছে না।
এদিকে উচ্ছেদ ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ওই দুই দোকানের মালিক। অবৈধ দখল ধরে রাখতে তারা রেলওয়ের পাকশী ও পোড়াদহ কার্যালয়ে ব্যাপক তদবির চালাচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মঙ্গলবার পোড়াদহ ফিল্ড কানুনগো ঘটনাস্থলে এসে অবস্থা বেগতিক দেখে সটকে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে রেলওয়ের পাকশী কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্টেশনের উন্নয়নকাজের স্বার্থে যত অবৈধ স্থাপনাই থাকুক না কেন, তা বিনাদ্বিধায় উচ্ছেদ করা হবে।
এর আগে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর অবৈধ দখলদারদের সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে উচ্ছেদ নোটিশ দেয় কর্তৃপক্ষ। পরদিন (১৫ সেপ্টেম্বর) সংস্কারকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু কাজ শুরু হতেই মাঠে নামে স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী চক্র। ‘কুষ্টিয়া রেলযাত্রী অধিকার পরিষদ’-এর অভিযোগ, রেলের জায়গা দখল করে লাখ লাখ টাকার ভাড়াবাণিজ্য টিকিয়ে রাখতেই আব্দুল ওয়াদুদ হেলাল, সেলিম এবং মেজবাউর রহমানের (বিডিআর) মতো ব্যক্তিরা পরিকল্পিতভাবে এই কাজে বাধা দিচ্ছেন।
জানা গেছে, রেলের জমিতে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনার মধ্যে হেলালের ৮-৯টি, সেলিমের অন্তত ২৪টি এবং মেজবাউরের দুটি অবৈধ দোকান রয়েছে। এসব দোকান থেকে মাসে গড়ে আট হাজার টাকা করে ভাড়া তোলা হয়। উচ্ছেদ হলে এই রমরমা বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে—মূলত এই আতঙ্কেই তারা বৃহত্তর জনস্বার্থের এই প্রকল্পে বাধা দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মটিকে আরও ৬৫০ ফুট লম্বা এবং ৩ ফুট উঁচু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কুষ্টিয়া রেলযাত্রী অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম ‘দৈনিক রুপালী কণ্ঠ’-কে জানান, গুটিকয়েক ব্যক্তির পকেট ভারী করার জন্য হাজারো যাত্রীর স্বার্থ কোনোভাবেই জলাঞ্জলি দেওয়া যাবে না। অবৈধ দখলদারদের এই চক্রান্ত রুখে দিতে তিনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ সব জায়গায় কুষ্টিয়ার জনসাধারণকে সোচ্চার হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।