
নিজস্ব প্রতিবেদক | কুমারখালী (কুষ্টিয়া)
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও তুমুল আন্দোলনের পর অবশেষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করতে যাচ্ছে আন্তঃনগর ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তকে ঘিরে কুমারখালী রেলওয়ে স্টেশনে এখন সাজ সাজ রব। প্রথম দিন ট্রেনটিকে উৎসবমুখর পরিবেশে বরণ করে নিতে এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিনব্যাপী স্টেশন এলাকায় ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকা স্টেশনটির বিভিন্ন অংশে রংয়ের কাজ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে স্টেশনের পরিচিতিমূলক নেমপ্লেটটি নতুন করে লেখা হয়েছে, যা নতুন রূপে যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিকতা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা এরই মধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-খুলনা রুটে সুন্দরবন এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করলেও গুরুত্বপূর্ণ এই জনপদে এর কোনো যাত্রাবিরতি ছিল না। অথচ কুমারখালী দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ কাপড়ের হাট (কুমারখালী কাপুড়িয়া হাট) এবং বাউলসম্রাট লালন সাঁই, মীর মশাররফ হোসেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাঙাল হরিনাথ ও বাঘা যতীনের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহ্যবাহী এলাকা।
ট্রেনটির যাত্রাবিরতির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে নানা কর্মসূচি, স্মারকলিপি প্রদান এবং ট্রেন আটকে বিক্ষোভ করে আসছিলেন স্থানীয় জনসাধারণ ও ব্যবসায়ী মহল। অবশেষে গত ৪ অক্টোবর রেলওয়ের চূড়ান্ত নির্দেশনায় এই স্টেশনে যাত্রাবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই দাবি পূরণ হওয়ায় এবং চোখের সামনে অবহেলিত স্টেশনটির এমন নতুন ও পরিপাটি রূপ দেখে কুমারখালীর সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও স্বস্তি বিরাজ করছে। নতুন এই যাত্রাবিরতির ফলে এই অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।