
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) উপজেলা সংবাদদাতা
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের চলাচলের সবথেকে আস্থার স্থান রেল,তৈরি হয়েছে যেন এক মরণফাঁদে।
আজ সকালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী রেলওয়ে স্টেশনে গোপালগঞ্জের গোবরা থেকে রাজশাহীগামী 'টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস' ট্রেনে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতের উদ্বেগজনক চিত্র যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রেনের পেছনের দিকের বগির খোলা দরজা ও পাদানিতে ঝুলে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছুটে চলছেন অসংখ্য যাত্রী। অরক্ষিত এই যাতায়াত ব্যবস্থা দেশের রেলওয়ের সার্বিক অব্যবস্থাপনা এবং যাত্রী নিরাপত্তার বেহাল দশাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রেনের বগির বাইরের হাতল ধরে এবং পেছনের বিপজ্জনক বাফারে (দুই বগির সংযোগস্থলের অংশ) দাঁড়িয়ে অনেক যাত্রী যাতায়াত করছেন। চলন্ত ট্রেনে সামান্য হাত ফসকে গেলে বা চালক হঠাৎ ব্রেক কষলে ঘটতে পারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ট্রেনের পেছনের অংশটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। এছাড়া, ট্রেনটির বেশ কিছু বগির বাহ্যিক অবস্থাও বেশ জরাজীর্ণ, যা রেলওয়ের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একদিকে অতিরিক্ত ভিড় বা আসন সংকটের কারণে যাত্রীদের বাধ্য হয়ে কিংবা অসচেতনতাবশত এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, স্টেশন ও ট্রেনে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির চরম ঘাটতির বিষয়টিও বর্তমান পরিস্থিতি থেকে প্রমাণিত। চোখের সামনে বিপজ্জনকভাবে যাত্রীরা ভ্রমণ করলেও তা দেখার বা থামানোর কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না।
একটি নিরাপদ ও আধুনিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের অরক্ষিত যাতায়াত বড় অন্তরায়। যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা এড়াতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।