
ডেস্ক রিপোর্ট (সাতক্ষীরা)
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার তিন প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে কলারোয়ার যুবক শুভ দাসের মরদেহ অবশেষে দেশে ফিরেছে। দীর্ঘ চার মাসের অপেক্ষার পর আজ রোববার সকালে কলারোয়ার শ্রীপতিপুর গ্রামে তাঁর মরদেহ পৌঁছালে পরিবারসহ পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। তরতাজা ছেলের কফিনবন্দি নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।
নিহত শুভ দাস (২৩) কলারোয়া উপজেলার কয়লা ইউনিয়নের শ্রীপতিপুর গ্রামের সুরঞ্জন দাসের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ জেলার জেবদিন এলাকায় একটি রুটি বহনকারী গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শফিকুল ইসলাম, আশাশুনি উপজেলার নাহিদুল ইসলাম এবং কলারোয়ার শুভ দাস। শফিকুল ও নাহিদুলের মরদেহ কয়েক মাস আগে দেশে ফিরলেও শুভর মরদেহ ফেরা নিয়ে তৈরি হয়েছিল দীর্ঘ অনিশ্চয়তা। সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আজ তাঁর মরদেহ বাড়িতে এসে পৌঁছায়।
পারিবারিক ভাগ্য বদলের আশায় ২০২৩ সালে জমিজমা বিক্রি ও ধারদেনা করে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন শুভ। ভ্যানচালক বাবা সুরঞ্জন দাস এবং ধানের চাতালে কাজ করা মা শিখা দাসের আশা ছিল, ছেলের রোজগারে তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট ঘুচবে। চার ভাইবোনের মধ্যে মেজো শুভর আয়ে পরিবারের দারিদ্র্য দূর হওয়ার যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, ড্রোন হামলায় তা নিমেষেই শেষ হয়ে গেছে। পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে গিয়ে লাশ হয়ে ফেরা তরতাজা ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁর দরিদ্র বাবা-মা।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রকিব মোল্লা জানান, অভাবের সংসার বাঁচাতে গিয়েই শুভকে প্রাণ হারাতে হলো। নিহতের পরিবারের এখনকার যে অসহায় অবস্থা, তা বিবেচনায় নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা জরুরি বলে দাবি জানান তিনি এবং এলাকাবাসী।
এদিকে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে শুভর মরদেহ তাঁর নিজ গ্রামে এসে পৌঁছায়। এরপর স্বজন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা।