
ডেস্ক রিপোর্ট
অনলাইন অ্যাপের পরিচয়ে গড়ে ওঠা প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে টাঙ্গাইলের সখীপুরে ছুটে এসেছিলেন দং লিয়াং নামের এক যুবক। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে স্থানীয় এক তরুণীকে (২৫) বিয়ের ইচ্ছাও ছিল তাঁর। কিন্তু ভিসার মেয়াদ কম থাকা এবং প্রতারণার আশঙ্কায় ওই যুবককে বিয়ের আগেই ঢাকায় ফেরত পাঠিয়েছে তরুণীর পরিবার ও স্থানীয়রা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে সখীপুর বাজারে এসে পৌঁছান ওই চীনা নাগরিক। খবর পেয়ে তরুণী নিজেই বাজারে গিয়ে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান। বিদেশি যুবক আসার খবরে তাঁকে একনজর দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় জমান স্থানীয় লোকজন। জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সখীপুরের ওই তরুণীর সঙ্গে দং লিয়াংয়ের পরিচয় হয়। নিয়মিত কথা বলার একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সেই টানেই তিনি সখীপুরে ছুটে আসেন।
তবে বিয়ের উদ্দেশ্যে ওই যুবক এলেও তরুণীর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রতারণার শঙ্কা তৈরি হয়। তরুণীর নানার ভাষ্যমতে, ওই চীনা নাগরিকের ভিসার মেয়াদ মাত্র ৯ দিন বাকি ছিল। এত অল্প সময়ে বিয়ে করে নাতনিকে চীনে নিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বর্তমান সময়ে বিদেশি নাগরিক সেজে নানা প্রতারণা ও মানব পাচারের ঘটনা ঘটায় পরিবারটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় লোকজনের মধ্যস্থতায় রাতেই একটি গাড়ি ভাড়া করে ওই যুবককে নিরাপদে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই যুবক যদি চীনে ফিরে গিয়ে বৈধভাবে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে এবং উপযুক্ত প্রমাণপত্রসহ পুনরায় আসেন, তবেই বিয়ের বিষয়টি ভেবে দেখা হবে। তবে দং লিয়াং যাওয়ার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে খুব শিগগিরই তিনি আবারও বাংলাদেশে ফিরে আসবেন এবং ধর্মীয় রীতি মেনে ওই তরুণীকে বিয়ে করবেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মেয়েটি যেন কোনোভাবেই প্রতারণার শিকার না হয়, সে বিষয়ে পরিবার ও স্থানীয়রা যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে মধ্যরাতে ওই যুবককে নিরাপদে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশকেও অবহিত করেছেন।