
নিজস্ব প্রতিবেদন
দীর্ঘ দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৩৮তম আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠকেও মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
এমনকি তিন দিনব্যাপী এই বৈঠকের মূল এজেন্ডাতেও ট্রেনগুলো চালুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে মৈত্রী এক্সপ্রেসকে নতুন রুটে পরিচালনার একটি প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের টিম লিডার ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক।
অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক জানান, বাংলাদেশ ও ভারত কোনো পক্ষের এজেন্ডাতেই ট্রেনগুলো চালুর বিষয়টি না থাকায় কবে নাগাদ এগুলো চালু হবে, তার কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ এসব ট্রেন বন্ধ করেনি; বরং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই চলাচল স্থগিত রয়েছে।
তাই ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব না এলে বাংলাদেশের নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে এবারের বৈঠকে ভারতীয় পক্ষ আগের মতো নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি, যাকে রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ।

বৈঠকে ভারতীয় পক্ষ যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতকে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠাতে হবে। নতুন এই রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হলে দূরত্ব কমার পাশাপাশি যাত্রীদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে।
দূরত্ব কমে যাওয়ায় ভাড়াও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পদ্মা সেতু দিয়ে এর আগে কোনো আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন না চলায় আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন সুবিধা, কারিগরি সক্ষমতা এবং কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় আগে পর্যালোচনা করতে হবে। রুট পরিবর্তনের মতো বড় সিদ্ধান্ত রেলপথ মন্ত্রণালয় এককভাবে নিতে পারবে না, এর জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
এবারের বৈঠকে বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস নিয়ে আলাদা করে কোনো আলোচনা হয়নি। অন্যদিকে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে ট্রেন চালুর বিষয়েও নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এই রুটের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য যাত্রী চাহিদার তথ্য দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো পাওয়া যায়নি।
তবে যাত্রীবাহী ট্রেনের বিষয়টি অমীমাংসিত থাকলেও, দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিনিধি দল।