1. admin@rupalikantho.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুমারখালীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস পরিচালনার আলোচনা: বাঁচবে ৩ ঘণ্টা সময়, কমবে ভাড়াও কয়া ইউনিয়নে তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে বিশাল সমাবেশ সম্পন্ন: অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শপথ খোকসায় জুমার খুতবায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান এমপি আফজাল হোসেনের কুমারখালীর শিলাইদহে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত বাগুলাটে বিভেদ ভুলে ঐক্যের বার্তা, কর্মী সমাবেশে এমপি আফজাল হোসেন খোকসার বিলজানী বাজারে এমপি আফজাল হোসেনের গণসংযোগ ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত ছেঁউড়িয়ায় লালন মেলা সমাপ্ত: ঘরে ফেরা মানুষের চাপে কুষ্টিয়ার ট্রেনে উপচে পড়া ভিড় তৃণমূলের দোরগোড়ায় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, শুনলেন সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ লালনের মানবতার বাণীতে মুখর ছেউড়িয়া, আজ পর্দা নামছে স্মরণোৎসবের

শরতের স্নিগ্ধতায় মোহনীয় রাতারগুল: নীল আকাশ আর জলের মিতালিতে পর্যটকের ঢল

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭৬ বার পঠিত

বিনোদন ডেস্ক (গোয়াইনঘাট,সিলেট)

প্রকৃতিতে এখন শরৎকাল। মাথার ওপর বিশাল পরিষ্কার নীল আকাশ, যেখানে ভেসে বেড়াচ্ছে তুলোর মতো শুভ্র মেঘের ভেলা। সেই মেঘ আর নীল আকাশের প্রতিচ্ছবি পড়ছে বনের শান্ত জলে। চারপাশের সবুজ গাছপালার ফাঁকে ফাঁকে মৃদু রোদ আর স্নিগ্ধ বাতাস তৈরি করেছে এক মায়াবী পরিবেশ। প্রকৃতির এমন অপরূপ সাজে সেজে ওঠা সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রাতারগুল জলাবনে (সোয়ায়েম্প ফরেস্ট) এখন দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলবেঁধে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির এই জলাবনে সারা বছরই দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে। বিশেষ করে বর্ষায় যখন পুরো বন পানিতে টইটুম্বুর থাকে, তখন রোমাঞ্চের খোঁজে এখানে ভিড় জমান পর্যটকরা। তবে শরতের এই সময়ে প্রকৃতি যেন সম্পূর্ণ নতুন, স্নিগ্ধ ও শান্ত এক রূপে ধরা দেয় রাতারগুলে। ভ্যাপসা গরম বা টানা বৃষ্টির বিড়ম্বনা না থাকায় দর্শনার্থীরা এই সময়টাকে ভ্রমণের জন্য বেশি আরামদায়ক মনে করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি ছোট ডিঙি নৌকায় করে পর্যটকরা বনের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জলে অর্ধেক ডুবে থাকা হিজল, করচ, বরুন আর মুতরা গাছের বনের ভেতর দিয়ে যখন নৌকাগুলো এগিয়ে যায়, তখন এক নৈসর্গিক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নৌকার বইঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর পাখির কলকাকলি ছাড়া আর কোনো কোলাহল নেই সেখানে। শহরের যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে পরিবার, পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে প্রকৃতির এই নিবিড় সান্নিধ্যে মেতে উঠেছেন সব বয়সের মানুষ। অনেকেই শরতের এই মোহনীয় রূপ মুঠোফোন ও ক্যামেরার লেন্সে বন্দী করে রাখছেন।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা কয়েক জন দর্শনার্থী জানান, বর্ষায় রাতারগুলের রূপ থাকে ভয়ংকর সুন্দর, আর শরতে থাকে স্নিগ্ধতা। এখনকার শান্ত জল আর নীল আকাশের যে মেলবন্ধন, তা সত্যিই মনকে প্রশান্তি দেয়। রোদের তেজ কম থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা নৌকায় ঘুরে বেড়াতেও কোনো ক্লান্তি লাগছে না।

পর্যটকদের এই উপচে পড়া ভিড়ে স্থানীয় নৌকার মাঝি ও ব্যবসায়ীদের মাঝেও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় তাদের আয়ও বেড়েছে বেশ। তবে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। পর্যটকদের বনের ভেতর পলিথিন বা প্লাস্টিক জাতীয় আবর্জনা না ফেলার জন্য এবং উচ্চ শব্দ সৃষ্টি না করার জন্য সচেতন করা হচ্ছে।

শরতের এই স্নিগ্ধতা আর রাতারগুলের বন্য সৌন্দর্য মিলেমিশে এখন একাকার। যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে যারা প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে কিছুটা প্রশান্তির সময় কাটাতে চান, তাদের কাছে শরতের রাতারগুল এখন এক আদর্শ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক রুপালী কণ্ঠ
Theme Customized By Shakil IT Park