
কুমারখালী(কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
কুষ্টিয়ার কুমারখালী রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রাবিরতির জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে এই দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে স্টেশন অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কুমারখালীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে এই আল্টিমেটাম দেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, শিল্প, সাহিত্য ও বাণিজ্যের দিক থেকে কুমারখালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী একটি উপজেলা। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস এই এলাকায়। ব্যবসা, চাকরি, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রতিদিন এখানকার বিপুলসংখ্যক মানুষকে ঢাকা, খুলনা বা বেনাপোলের মতো শহরগুলোতে যাতায়াত করতে হয়। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বাহন হিসেবে ট্রেনের ওপরই সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি ভরসা। তাই দীর্ঘদিন ধরেই রেলওয়ের মহাপরিচালক থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা।
ট্রেনের যাত্রাবিরতির এই দাবির পেছনে একটি প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, দীর্ঘ চেষ্টার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কুমারখালী স্টেশনে বেনাপোলগামী একটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী খোকসা স্টেশনে ওই ট্রেনের যাত্রাবিরতি বাতিল করায় দুই উপজেলার মানুষের মধ্যে একধরনের ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কুমারখালীবাসী বেনাপোল ট্রেনের পরিবর্তে আন্তঃনগর সুন্দরবন ট্রেনের যাত্রাবিরতির নতুন প্রস্তাব দেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সুন্দরবন ট্রেনের যাত্রাবিরতির বিষয়ে আশ্বাস দিলেও তা এখনো শুধুই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে। অবিলম্বে এই আশ্বাসের বাস্তব প্রয়োগ দেখতে চান স্থানীয়রা। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ছাড়া তাদের কোনো উপায় থাকবে না।
দাবি আদায়ের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শাকিল আহমেদ তিয়াশ, কুমারখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার লিপু আমির ও সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মাহমুদ খান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের উপজেলা সভাপতি সাধক হারুন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাকিব প্রামানিক এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জিলালসহ স্থানীয় অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।