
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মাদক সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় মিসরের পরিচিত টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারা খলিফাসহ ১২ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। সম্প্রতি মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির কাছ থেকে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় আইনি মতামত পাওয়ার পর এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পত্রিকা ‘আল-আহরাম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্তরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য হিসেবে কাজ করত। তারা মূলত বিক্রির উদ্দেশ্যে মাদক তৈরির কাঁচামাল আমদানি করার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তদন্ত চলাকালে কর্তৃপক্ষ ৭৫০ কেজিরও বেশি মাদক এবং তা তৈরির কাঁচামাল জব্দ করে। এর পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। আদালতে সরকারি কৌঁসুলিরা ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি এবং আসামিদের কথোপকথন ও ভিডিও ক্লিপের মতো শক্তিশালী ইলেকট্রনিক প্রমাণ উপস্থাপন করেন।
অপরাধবিষয়ক জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান ‘মিশন ইম্পসিবল’-এর উপস্থাপনার জন্য পরিচিত ৩৯ বছর বয়সী সারা খলিফা অবশ্য শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। গত সেপ্টেম্বরে আদালতে হাজির হওয়ার সময় বিচারক তার ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে খলিফা দাবি করেন, মাদকবিরোধী কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে ছবি তোলার আগে তিনি কখনোই নিজের চোখে কোনো মাদক দেখেননি। জানা গেছে, খলিফার আইনজীবী শিগগিরই এই মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

এই আলোচিত মামলায় বিচারকাজ শেষে আরও ৯ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ৭ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
এদিকে মৃত্যুদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ সাজার ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরে মিসরে ৪৯২টি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২৩টি এরই মধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। অ্যামনেস্টির দাবি, আন্তর্জাতিক আইন ও মানদণ্ড অনুযায়ী মাদক পাচারের মতো অপরাধ সরাসরি ‘ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড’ বা ‘প্রাণঘাতী অপরাধ’-এর পর্যায়ে পড়ে না। তাই এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের মতো চূড়ান্ত শাস্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকা উচিত।