
নিজস্ব প্রতিবেদন (কুষ্টিয়া)
দীর্ঘদিনের চরম ভোগান্তি আর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের সংস্কার কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এই সংস্কার কাজের উদ্বোধন হয়। তবে এই কার্যক্রমে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আমির হামজাকে আমন্ত্রণ না জানানো নিয়ে তৈরি হওয়া নানা জল্পনাকল্পনা ও রাজনৈতিক আলোচনার কড়া জবাব দিয়েছে ‘কুষ্টিয়া রেলযাত্রী অধিকার পরিষদ’। সংগঠনটি এক দীর্ঘ বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়েছে, যাত্রীদের স্বার্থই তাদের কাছে মুখ্য, কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ নয়।
এমপির অনীহা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অজুহাত কুষ্টিয়া রেলযাত্রী অধিকার পরিষদ তাদের বিবৃতিতে জানায়, বিগত দুই বছর ধরে কুষ্টিয়ার অবহেলিত রেল ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন ও যাত্রী অধিকার আদায়ে তারা তৎপর রয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ৫ মার্চ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আমির হামজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে স্টেশন সংস্কারের দাবি জানানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ ছয় মাসেও তিনি স্টেশন পরিদর্শনে আসেননি।

সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট এমপির সঙ্গে পুনরায় সাক্ষাৎ করে কোর্ট স্টেশনের সংস্কারের তাগিদ দিলে তিনি জানান, কুষ্টিয়া ও কোর্ট স্টেশনের কোনোটিই বর্তমান স্থানে থাকবে না, স্টেশন মেডিকেলের পেছনে সরিয়ে নেওয়া হবে। তাই এসব স্টেশনে অর্থ ব্যয় করাকে তিনি ‘পয়সা নষ্ট’ বলে মন্তব্য করেন।
অথচ পাকশী রেল কর্তৃপক্ষের মতে, শহর থেকে সম্পূর্ণ রেললাইন স্থানান্তরের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে অন্তত ২০ বছর সময় লাগতে পারে। অধিকার পরিষদের প্রশ্ন ছিল, দীর্ঘমেয়াদি এই প্রকল্পের আশায় আগামী ২০ বছর যাত্রীরা কী করবেন? এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর এমপি দিতে পারেননি। এমনকি পরিদর্শনের কথা দিয়েও তিনি কথা রাখেননি।
বর্তমান দুর্ভোগ ও ফরিদা ইয়াসমিন এমপির হস্তক্ষেপ জরাজীর্ণ প্ল্যাটফর্মের কারণে ট্রেনে ওঠানামা করতে গিয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি বেনাপোল এক্সপ্রেস থেকে নামতে গিয়ে এক বৃদ্ধা ট্রেনের নিচে পড়ে যাওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে। এমপির কাছ থেকে হতাশাজনক উত্তর পেয়ে সংগঠনটি বাধ্য হয়ে গত ৩১ আগস্ট সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের শরণাপন্ন হয়।
যাত্রী ভোগান্তির কথা জেনে এমপি ফরিদা ইয়াসমিন তাৎক্ষণিক পাকশী রেল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি গত ১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন পরিদর্শনে আসেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ১৫ সেপ্টেম্বর সংস্কার কাজের উদ্বোধনের ঘোষণা দেন। তাঁর সেই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার এই কাজের উদ্বোধন করা হয়।
অধিকার পরিষদের কড়া বার্তা স্থানীয় এমপি আমির হামজাকে অনুষ্ঠানে না ডাকার বিষয়ে কুষ্টিয়া রেলযাত্রী অধিকার পরিষদ বিবৃতিতে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে, যেহেতু তিনি বর্তমান স্টেশনগুলোর উন্নয়নের ব্যাপারে নিরুৎসাহ প্রকাশ করেছেন এবং বিগত ছয় মাসে কোনো পদক্ষেপ নেননি, তাই তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
বিষয়টিকে যারা রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশে সংগঠনটি বলেছে, “যিনি যাত্রীদের সংকট সমাধানে এগিয়ে এসেছেন, তাঁকে আমরা সাদরে গ্রহণ করেছি। আর যিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাঁকে উপেক্ষা করেছি। কে উদ্বোধন করল, আর কে করল না—তা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হওয়া, যা আজ বাস্তবায়িত হয়েছে।”
(১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,মঙ্গলবার,রাত ৯:২০ মি/কুষ্টিয়া রেলযাত্রী অধিকার পরিষদের ফেসবুকে পেইজে এই বিবৃতি দেওয়া হয়)