
নিজস্ব প্রতিবেদক | কুমারখালী (কুষ্টিয়া)
দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার চূড়ান্ত ফল পেল কুষ্টিয়ার কুমারখালীবাসী। আগামী ১৫ অক্টোবর (২০২৬) থেকে ঐতিহ্যবাহী এই রেলস্টেশনে ঢাকা-খুলনা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রাবিরতি শুরু হতে যাচ্ছে। গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ রেলওয়ের এক চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই দাবি পূরণ হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও স্বস্তি বিরাজ করছে।
(বেনাপোল এক্সপ্রেস এর খোকসার পরিবর্তে কুমারখালিতে যাত্রাবিরতির বিজ্ঞপ্তি)
কুমারখালী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক জনপদ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি, বাউলসম্রাট লালন সাঁইয়ের আখড়া, মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা এবং বাঘা যতীন ও কাঙাল হরিনাথের স্মৃতিবিজড়িত এই এলাকাটি উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এছাড়া এখানে রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাপড়ের হাট (কুমারখালী কাপুড়িয়া হাট), যেখানে প্রতি শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হাজারো ব্যবসায়ীর সমাগম ঘটে।
ঐতিহাসিকভাবে ভারতের রানাঘাট থেকে কুষ্টিয়ার জগতি হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত দেশের প্রথম রেলপথ এই জনপদের ওপর দিয়েই স্থাপিত হয়েছিল। পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটে ঢাকা-খুলনাগামী ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ এবং ঢাকা-বেনাপোলগামী ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ চলাচল শুরু করে। তবে এত গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হওয়া সত্ত্বেও কুমারখালীতে কোনো আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেওয়া হয়নি। উল্টো পার্শ্ববর্তী খোকসা স্টেশনে বেনাপোল এক্সপ্রেস এবং পাংশা স্টেশনে সুন্দরবন এক্সপ্রেসের স্টপেজ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে কুমারখালীবাসী। তারা দফায় দফায় ট্রেন আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন, রেলওয়ের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদানসহ কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়।

(১৫ অক্টবর থেকে কুমারখালীতে যাত্রাবিরতির নোটিশ)
এর আগে আন্দোলনের মুখে গত ২২ জুলাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বেনাপোল এক্সপ্রেসের খোকসার স্টপেজ বাতিল করে সেটি কুমারখালীতে দেয়। কিন্তু খোকসাবাসী এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ট্রেন আটকে দিলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসে এবং খোকসার স্টপেজটি বহাল রাখা হয়।
পরবর্তীতে কুমারখালীবাসীর টানা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে কুমারখালীতে সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানায় রেলওয়ে। সর্বশেষ ৪ অক্টোবরের নির্দেশনায় আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে সেই যাত্রাবিরতি কার্যকর করার চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়।
দীর্ঘদিনের এই যৌক্তিক দাবি পূরণ হওয়ায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন কুমারখালীর সর্বস্তরের জনসাধারণ ও ব্যবসায়ী মহল।