
নিজস্ব প্রতিবেদক (গাজীপুর)
রাজধানীর অদূরে অবস্থিত গাজীপুরের সাফারি পার্ক থেকে বছর দেড়েক আগে চুরি হওয়া দুটি বিরল প্রজাতির ‘রিঙ-টেইলড’ বা ডোরাকাটা লেজের লেমুর ভারতে পাচার হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একাধিক চোরাচালানকারীর হাত ঘুরে বিপন্ন প্রজাতির এই প্রাণীগুলো বর্তমানে ভারতের গুজরাটের একটি বেসরকারি বন্যপ্রাণী উদ্ধার, সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রয়েছে। লেমুর দুটিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের অভাবে তা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, লেমুরগুলোকে ভারত থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনার প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো বন্যপ্রাণীকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফেরত আনতে হলে আগে প্রমাণ করতে হয় যে সেটি সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে পাচার হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, প্রাণী শনাক্ত করার সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত ও কার্যকর উপায় হলো প্রাণীটির আগের জেনেটিক প্রোফাইল বা ডিএনএ রিপোর্টের সঙ্গে বর্তমান ডিএনএ রিপোর্ট মিলিয়ে দেখা।
কিন্তু বিপত্তি বেধেছে এখানেই। গাজীপুর সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাচার হওয়া লেমুর দুটির কোনো ডিএনএ প্রোফাইল তাদের সংরক্ষণে ছিল না। এ বিষয়ে গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন, “আমাদের কাছে চুরি যাওয়া লেমুর দুটির ডিএনএ রিপোর্ট নেই। তবে পার্কের অন্য একটি লেমুরের ডিএনএ স্যাম্পল আমরা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি, যার সঙ্গে চুরি যাওয়া লেমুর দুটির রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। এই ডিএনএ রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই আমরা আশাবাদী।”
‘রিঙ-টেইলড’ বা ডোরাকাটা লেজের লেমুর বাংলাদেশের কোনো দেশীয় প্রাণী নয়। এদের আদি নিবাস মূলত আফ্রিকা মহাদেশের মাদাগাস্কার দ্বীপে। আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের মাধ্যমে এদের বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়। ব্যাপক পাচার এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে বিশ্বে প্রাণীটির অস্তিত্ব এখন রীতিমতো বিপন্ন।