
নিজস্ব প্রতিবেদক | কুষ্টিয়া
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের সংস্কারকাজ শুরু হলেও তাতে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে। রেলওয়ের জায়গায় অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করে লাখ লাখ টাকা ভাড়াবাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে তারা এই সংস্কারকাজ বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করেছে ‘কুষ্টিয়া রেলযাত্রী অধিকার পরিষদ’।
স্টেশন এলাকার দৃশ্যমান সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রেলওয়ের জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে একটি উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করে কর্তৃপক্ষ। ওই নোটিশে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরদিনই, অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টেশনের সংস্কারকাজের উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে স্টেশনের বাইরের লোহার ব্যারিকেড অপসারণসহ অন্যান্য কাজ চলছে।
তবে উচ্ছেদের নোটিশ পেয়েই অবৈধ দখলদাররা সংঘবদ্ধ হয়ে সংস্কারকাজ বন্ধ করার পাঁয়তারা শুরু করেছে। কুষ্টিয়া রেলযাত্রী অধিকার পরিষদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল ওয়াদুদ হেলাল, সেলিম এবং মেজবাউর রহমান (বিডিআর) এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা। অভিযোগ রয়েছে, সম্পূর্ণ রেলের জমিতে অবৈধভাবে দোকানঘর তুলে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া আদায় করে আসছেন।
সংগঠনটির প্রাপ্ত তথ্যমতে, রেলের ওই জায়গায় আব্দুল ওয়াদুদ হেলালের অধীনে প্রায় ৮ থেকে ৯টি, সেলিমের অধীনে অন্তত ২৪টি এবং মেজবাউর রহমানের অধীনে ২টি দোকান রয়েছে। এসব অবৈধ স্থাপনার প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিমাসে গড়ে ৮ হাজার টাকা করে ভাড়া আদায় করা হয়। উচ্ছেদ অভিযান সফল হলে তাদের এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। মূলত নিজেদের আর্থিক স্বার্থে আঘাত লাগাতেই তারা বৃহত্তর জনস্বার্থের এই প্রকল্পে বাধা দিচ্ছেন।
যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে এই স্টেশনের প্ল্যাটফর্মটি আরও ৬৫০ ফুট সম্প্রসারণ এবং ৩ ফুট উঁচু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে নারী-শিশু ও বৃদ্ধরা সহজে ট্রেনে ওঠানামা করতে পারেন এবং ভবিষ্যতে বড় ট্রেন চালু হলেও যাত্রীদের কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।
রেলের নিজস্ব জমিতে রেলওয়ের উন্নয়নকাজে অবৈধ দখলদারদের এই বাধার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কুষ্টিয়া রেলযাত্রী অধিকার পরিষদ। গুটিকয়েক ব্যক্তির ব্যক্তিখাতে বৃহত্তর জনস্বার্থ যেন উপেক্ষিত না হয়, সেজন্য কুষ্টিয়ার সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, যাত্রীস্বার্থে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা সম্মুখসারিতে থেকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে।
(উপরোক্ত তথ্যসমূহ কুষ্টিয়া রেলযাত্রী অধিকার পরিষদের সভাপতি মোঃ আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনের মাধ্যমে দৈনিক রুপালী কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছে)