
ডেস্ক রিপোর্ট (ময়মনসিংহ)
সামান্য বাসাভাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে ফরহাদ হোসেন নামে এক যুবককে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় গত বুধবার রাতে নিজ বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর দগ্ধ হন ওই যুবক। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।
নিহত ফরহাদ হোসেন মধ্যহিস্যা এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তিনি ওই এলাকায় একটি মুদি দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুসলিম লীগ থেকে মুক্তাগাছা আসনে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ফরহাদ। পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থানের দাবিতে আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।
ফরহাদের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতের স্ত্রী রুনা আক্তার স্বামীর আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিন সন্তানকে নিয়ে ভবিষ্যৎ সংসার কীভাবে চলবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন বলে জানান তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন রুনা।
নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামীকে হত্যার আগে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা বিচার চাই। আমার দুই-তিনটি ছেলে-মেয়ে। তাদের বাবা নেই। কে তাদের দেখবে, কে মানুষ করবে, কে উপার্জন করে খাওয়াবে—এখন আমরা কী করব?”
এদিকে স্বজনরা জানান, কয়েক বছর আগে স্ত্রীকে হারানোর পর বড় ছেলে ফরহাদের উপার্জনের ওপরই নির্ভর করে চলত পরিবারটি। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বৃদ্ধ বাবা আব্দুস সাত্তার এখন দিশাহারা। পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব কে নেবে—এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশ পরিবারের পাশে রয়েছে। মৃত্যুর আগে ফরহাদ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনের পরিচয় জানিয়ে গেছেন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশ জানায়, ফরহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। ঘটনার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত ফরহাদকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে আমাদের একাধিক দল একসঙ্গে কাজ করছে। মৃত্যুর আগে ফরহাদ কিছু তথ্য দিয়ে গেছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
স্বজনদের অভিযোগ, দুই ব্যক্তি ফরহাদের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে তিনি দৌড়ে রাস্তার দিকে চলে যান। ঘটনাস্থলের আশপাশে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর ব্যবহৃত কিছু আলামতও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার এবং পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তারা।
সচেতন মহলের মতে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।